টানা কয়েক দিনের সহিংসতা ও নৈরাজ্যে অস্থির হয়ে ওঠে দেশের পোশাকশিল্পাঞ্চল। এসব ঘটনার পেছনে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিল সরকার ও বিরোধী দল। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কারখানার মালিক ও শ্রমিকরাও। তবে আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
আন্দোলনের বিষয়ে কয়েকজন পোশাকশ্রমিক জানান, তাঁদের কারখানার কোনো শ্রমিক এ আন্দোলনে অংশ নেননি। তাঁদের দাবি, আন্দোলনকারীরা বাইরের লোক। তাঁদের ভাষায়, কারখানার ক্ষতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেখানে কর্মরত শ্রমিকরাই। বাইরের কোনো পক্ষ থেকে হামলা বা উসকানি না এলে কারখানার ভেতরে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছিল।
স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, নতুন করে চাপ সৃষ্টি হলে আরও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গত দুই বছরে এমনিতেই অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে বহু শ্রমিক বেকার হয়েছেন, পাশাপাশি আশপাশের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, পোশাকশিল্প শুধু মালিকদের বিষয় নয়; এর সঙ্গে শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের জীবিকাও জড়িত।
এদিকে, পোশাকশিল্পাঞ্চলের অস্থিরতার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে পাওয়া তথ্যে শতাধিক কারখানার মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অনুসন্ধানের কথা জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে রেনেসা গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সেপাল গ্রুপের চারটি কারখানার নিয়ন্ত্রণের তথ্য উঠে এসেছে। সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদলের সঙ্গে তুষকা গ্রুপ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে স্টারলিং গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার কথাও রয়েছে তালিকায়। এ ছাড়া ইসলাম গ্রুপের মালিক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের নামও এসেছে।
পুলিশের দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ছিল একটি পক্ষের।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন স্টার নিউজকে বলেন, বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠনের একাধিক নেতৃস্থানীয় সদস্যও রয়েছেন। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে বিপদগ্রস্ত ও বিশৃঙ্খল খাত হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে তাঁরা আন্দোলনকে ব্যবহার করেছেন বলে পুলিশের ধারণা।
অন্যদিকে, পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এ আন্দোলনে জড়িত নন বলে দাবি করে উসকানিদাতাদের শনাক্তে আরও উচ্চতর তদন্তের কথা জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে।
এদিকে, গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে পোশাকশ্রমিকদের। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিক এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুবুল হককে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। অন্যদিকে, মাওলানা মাহবুবুল হক দলটির নায়েবে আমীর। তিনি প্রখ্যাত আলেম ও রাজনীতিবিদ মরহুম শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে এবং মাওলানা মামুনুল হকের বড় ভাই। প্রার্থী ঘোষণা করে মামুনুল হক বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান সংকট সমাধানে দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা যোগ্যতার পরিচয় দেবেন বলে তারা আশাবাদী। নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত মহানগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার পথ খোলা রয়েছে। তবে দেশজুড়ে দলীয় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দিনের চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষায় জাতীয় সেনাবাহিনী ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যাশা জানান তিনি। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে সরকার নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জুলাই সনদের অভিপ্রায় ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিরোধী দলীয় জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে কর্মসূচি পালনের কথা জানান তিনি। ১১ দলীয় ঐক্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, এই ঐক্য মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের ঐক্য এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করায় সমন্বিত প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে চলমান আন্দোলনের ঐক্য দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঐক্য ধরে রাখতে বৃহৎ দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ভূমিকা পালন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক নির্বাচন কমিশন নিয়ে দলের অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্যের বিস্তারিত অংশ সরবরাহ করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অসম্পূর্ণ রয়েছে।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই ১৯৭৫ সালের ০৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের অরক্ষিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী আজ রাতে অফিসার্স ক্লাব ঢাকা কর্তৃক 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬' উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের অরক্ষিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চূড়ান্তভাবে রক্ষা করেছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এদেশের জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; একদলীয় শাসনের কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতির মধ্যে ধুমায়িত ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে সিপাহী-জনতা বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এনে জিয়াউর রহমানের ওপর দেশের নেতৃত্বের ভার তুলে দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতার মোহে বা নিজ উদ্যোগে ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ঘটাননি, বরং জাতির মহতী প্রয়োজনে মানুষই তাঁকে নেতা বানিয়েছিল। তিনি বাংলাদেশকে অরক্ষিত পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে বহু দলীয় গণতন্ত্র, সমসাময়িক অর্থনীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক এক সংবিধানে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, যা এ দেশের প্রতিটি জনগণকে এক সুতোয় গেঁথে জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দেয়। মন্ত্রী আরও বলেন, ৭ই নভেম্বর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়, এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সর্বস্তরের মুক্তিকামী মানুষের এক চিরন্তন ও সার্বজনীন অর্জন। তিনি বলেন, ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশরা যেটিকে সিপাহী মিউটিনি বলে আখ্যা দিয়েছিল, সেটি ছিল মূলত উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ। সেই বিপ্লব ব্যর্থ হলেও ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ব্যর্থ হয়নি। যদি সেদিন এই বিপ্লব সফল না হতো, তবে বাংলাদেশকে হয়তো দীর্ঘ মেয়াদের জন্য অনাগতকালের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে হতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর রাজনৈতিক চেতনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান একদিনে গড়ে ওঠেনি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহু মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিনিময়ে এই অর্জন অর্জিত হয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক শক্তির এককভাবে এর মালিকানা দাবি করা সমচীন নয়, কারণ এই চেতনা সমগ্র জাতির। সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রলোভনের উর্ধ্বে থেকে প্রজাতন্ত্রের সেবা ও জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক দায়িত্ব হলো বেআইনি আদেশ অমান্য করে নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব সম্পাদন করা। সালাহউদ্দিন বলেন, সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক অংশীদার ও প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এই পরিবারেরই একজন। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক চাপ, লোভ কিংবা ভীতি থেকে সিভিল সার্ভিসের একাংশ ভোটারবিহীন ও নৈশকালীন নির্বাচন আয়োজনে সহায়তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার চরম মাসুল গুনতে হয়েছে সিভিল প্রশাসনকে। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম বা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসন ব্যবহৃত না হয় এবং এই ধরনের কলঙ্কজনক ইতিহাস রচিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ডেপুটি কমিশনারগণ মাঠপর্যায়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ফলে তাঁদের দায়িত্ব অপরিসীম এবং নিজেদের সর্বদা পরিশীলিত রেখে কাজ করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর জনগণ যাদের ম্যান্ডেট দেবে, তাদের হাতেই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে, কারণ পরিবর্তনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার ট্রেজারার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব ও ডিটিসিএ'র সাবেক নির্বাহী পরিচালক মসিউর রহমান, সাবেক সচিব এস এম জহিরুল ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সচিব মাসুদ আলমগীর হোসেন (মাসুদ আলমগীর হোসেন নোবেল)। অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সহসভাপতি এম এ রাজেক অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের শহিদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তাই নতুন করে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারাদেশের চিংড়ি ঘের নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের আলোচনা এবং দর-কষাকষির ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নেই। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কোনো কোনো মহল নিজেদের স্বার্থে শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে শিল্প খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে সরকার মনে করছে। তিনি জানান, গার্মেন্টস ও বিকেএমইএ-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রায় সব নেতার সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে। মালিকপক্ষের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এখন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। কিছু গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকা এবং শ্রমিকদের সড়কে অবস্থান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করতে পারে। কেউ কারখানা বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। তাই শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা—সব বিষয়ই সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার সচেষ্ট। তবে শ্রমিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল কিংবা শিল্প খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।