বান্দরবানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যচিং মার্মাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে বান্দরবান পৌর শহরের মধ্যমপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর সঙ্গে গত পাঁচ মাস ধরে শৈক্যচিং মার্মার সম্পর্ক ছিল। এ সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের সাইনী রিসোর্টে নিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রিসোর্টে খাবার খাওয়ার সময় ওই নারী বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে শৈক্যচিং মার্মা তাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন রিসোর্টে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই নারীর পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। শৈক্যচিং মার্মা তাঁর দূরসম্পর্কের দুলাভাই। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শৈক্যচিং মার্মা। তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার করা হয়েছে এবং অর্থ আদায়ের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। টাকা না দেওয়ায় ওই নারী মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কামরুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মধ্যমপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে শৈক্যচিং মার্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করা যাবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইসির নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ভোটার স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ অক্টোবর। আবেদন ইস্যুর শেষ তারিখ ৩ নভেম্বর এবং জমা পড়া আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময় ৫ নভেম্বর। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন জমা, ইস্যু এবং নিষ্পত্তির জন্য বিস্তারিত সময়সূচি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ছাড়াও এদিন তিনি মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী । আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পরিদর্শন শুরু করে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন। পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী পরিদর্শন করে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি। পরিদর্শনের একপর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাথ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গৌরবময় নাম। ১৯৪৮ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠিত হয়। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সবচেয়ে বেশি বীরোচিত সাহসিকতার পুরস্কার লাভ করে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে। তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু না করতো, তাহলে এ দেশ এখনও পাকিস্তান থাকতো। তিনি আজ রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, সিনিয়র টাইগার্স কর্তৃক আয়োজিত "সিনিয়র টাইগার্স এর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পুণর্মিলনী-২০২৬" শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি প্রকৃত জনতার যুদ্ধ, জাতির যুদ্ধ। '৭১ এর যুদ্ধ যারা দেখেনি, তারা জাতির গৌরবান্বিত ইতিহাস দেখেনি। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে এদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের জীবন ছিল রোমাঞ্চকর। প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধ জয়ের বিজয়োল্লাস ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তারা আটকে ছিল। স্পীকার বলেন, প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং মহান স্বাধীনতার স্থপতি মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাঙ্গালি জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নেতৃত্ব দিয়েছিল। স্পীকার এসময় প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে নিজের জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন এবং আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। অসীম সাহসিকতা এবং ধৈর্যের সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতির গৌরবগাঁথায় নিজেকে জড়ানোর ইতিহাস তুলে ধরেন। এসময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধে এর গুরুত্বপূর্ণ গৌরবময় অধ্যায়ের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এসময় সিনিয়র টাইগার্সদের পক্ষ থেকে স্পীকারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ইস্ট বেঙ্গলের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত 'টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়' সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সাথে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, "এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।" উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ১. অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ এবং পর্যটকদের সহায়তায় একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে প্রেরন। ২. স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পর্যটন খাতের অংশীজনদের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জরুরী সভা আয়োজন। সভায় সুপারিশকৃত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন। ৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পর্যটন কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় অগ্নি নিরাপত্তা (Fire Safety) জোরদারকরণ এবং জরুরি উদ্ধারবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত 'টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়' সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানান।
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ সরকারি বরাদ্দ, ছুটি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন বনানী পূজামাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, উপাসনালয় নির্মাণ এবং বৈষম্য ছাড়াই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার দিয়েছে। তিনি ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ শব্দ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমরা কেউ এখানে সম্প্রদায় হয়ে আসি নাই। দেশের আইন-কানুন বা সংবিধান কাউকে সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের সমান অধিকারপ্রাপ্ত স্বাধীন নাগরিক।” সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকারকে প্রাধান্য দেয়। বনানী পূজামণ্ডপের এবারের মূল ভাবনা ‘জলজ’। দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে সাজানো মণ্ডপের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশীয় ঐতিহ্যে রূপায়িত এ আয়োজন অসাধারণ ও প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চেয়ারম্যান ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া (দিলন)। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য স্বপ্না ভৌমিক। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দুর্গার আগমনী গান, নৃত্য পরিবেশনা ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ সময় শারদীয় বিশেষ সাময়িকী ‘বোধন’-এর মোড়কও উন্মোচন করা হয়।
পুরান ঢাকাবাসীর জন্য উন্নত ও সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হাসপাতালটির উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে এই কলেজ এবং বিশেষ করে হাসপাতালটির প্রতি তাঁর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধূপখোলা মাঠে নির্বাচনী প্রচারণায় এলে তাঁকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উন্নয়নের বিষয়ে বিশেষভাবে বলেছিলেন। হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে আরও উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এখানে বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালসহ বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর উন্নত বিশ্বে যে সমস্ত চিকিৎসা রয়েছে, সেগুলো যাতে স্বল্পমূল্যে আমার এলাকার জনগণ, আমার এই পুরান ঢাকাবাসী, আমার ভোটাররা পেতে পারেন এবং বিনা মূল্যে যাতে সেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন, সেটির জন্য ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা প্রকল্প গ্রহণ করব এবং সেটিকে বাস্তবায়ন করব।’ তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটির উন্নয়নের পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজটিকেও আরও উন্নত করতে চান। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের এক নম্বর মেডিক্যাল কলেজ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কলেজটির সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, এখানকার সুযোগ-সুবিধা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে যে মানে গড়ে তুলতে চান, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষার্থীদের ডরমিটরি ও শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ন্যাশনাল হাসপাতালকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে উন্নত মানের এবং সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। নিজের বাবা সাদেক হোসেন খোকা এবং ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. তাসমিনা মতিনের অবদানের কথাও স্মরণ করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, তাঁদের যৌথ উদ্যোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ১৫ অক্টোবর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁরা একটি মহৎ পেশার জন্য শিক্ষা গ্রহণ করছেন। ভবিষ্যতে দেশের জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার লক্ষ্যে তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত (এমপি), ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. ইফফাত আরা সহ প্রমুখ।
স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে এবং স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকৃত বাজেটের প্রতিটি পয়সা জনগণের সেবায় স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র আলামত পাওয়া গেলে—তিনি যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোন না কেন—আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী এক মুহূর্তের জন্যও তাকে প্রশ্রয় দেবেন না; তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও মেডিকেল কলেজের ৩২তম ডিএনএমসি ডে -তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। স্বাস্থ্য খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের স্বাস্থ্য খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এমনকি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেও টানা ১২ বছর কোনো আয়কর দেওয়া হয়নি, সেই অর্থও লুটপাট করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ও নতুন গভর্নিং বডি এসে এখন সেই পুঞ্জীভূত দায় শোধ করছে।” দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোনো খাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র আলামত পাওয়া গেলে—তিনি যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোন না কেন—আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী এক মুহূর্তের জন্যও তাকে প্রশ্রয় দেবেন না; তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিয়ে স্বাস্থ্য ড এম এ মুহিত উল্লেখ করেন, চব্বিশের গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তনের পথ ধরেই সরকার স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠন করছে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটি পয়সা নতুন ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কাছে বিনামূল্যে ওষুধ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতেই ব্যয় করা হবে।
সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ন পালকে (৪৭) চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ চার দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদ্বয়কে কারাগারে আটক রাখার এ আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, আসামিদ্বয়কে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন রয়েছে। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করার লক্ষ্যে আরও রিমান্ড চাওয়া হবে।পরবর্তী অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে পরবর্তী রিমান্ডের জন্য তাদেরকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় তাদেরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে, গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পল্লবীর নিজ বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ আসামিপক্ষের জামিনের বিরোধিতারকরে শুনানি করেন।অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু,মো. মশিউর রহমান জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আদালত শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, "আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় অবস্থান করে 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১' এবং 'বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি' নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত 'ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট' প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।" 'আজকাল ডটকম' নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হতো। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজী গুলশান আরার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেন কাজী গুলশান আরা। পরে সহযোগীদের নিয়ে 'বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ' নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সহ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সবুজায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তদারকি, গাছপালার যথাযথ পরিচর্যা এবং অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।