সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ৯ টি মামলায় শুনানি ও রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
আজ বুধবার সংশ্লিষ্ট ঐ মামলাগুলোর আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করে জালিয়াতির ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃতাধীন আপিল বিভাগে বিষয়টি আদেশের জন্য রেখেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’-এর ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী ৬০% নারী কোটা সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি উল্লেখ করে তৎকালীন চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয় এবং ৬ মাসের মধ্যে নতুন মেধা তালিকা প্রণয়ন করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মূল ৫৮ জন পিটিশনারের বাইরে অতিরিক্ত ৬৪ জন নতুন সহ-পিটিশনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এফিডেভিট সম্পন্ন করা হয়। তবে সেটি নিয়মিত সেকশন প্রসেস, নাম তালিকাভুক্তকরণ কিংবা বিবাদী পক্ষকে (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর) নোটিশ পাঠানো ছাড়াই ফাইল সরাসরি বিচারকের কাছে রেখে মাত্র একদিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয়। মূল শুনানির মাত্র চার দিনের মাথায় হাইকোর্ট বিভাগ রায় ঘোষণা করেন, যেখানে মূল আবেদনকারীদের বাদ রেখে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া নতুন সহ-পিটিশনারদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এমন মোট ৯ টি মামলায় জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগে শুনানিকালে নথিপত্রে দৃশ্যমান এই নজিরবিহীন দ্রুতি, প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র সামনে এলে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, মূল পিটিশনারদের কিছু বাদ দেয়া হয়েছিল, আবার কিছু যুক্তও হয়েছিল। আমি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি, তবে সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল। কাল আদেশের পর বিস্তারিত বলতে পারব।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
প্রবীণদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আলাদা ‘প্রবীণ সেল’ গঠনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। ফোরামের সভাপতি ফেরদৌস আরা বেগম প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব নাগরিকদের মেট্রোরেল, ট্রেন ও গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড়, প্রবীণবান্ধব চিকিৎসাসেবা এবং সার্বজনীন সিনিয়র সিটিজেন কার্ড চালু। প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. খবির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ কাজে কিছু শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও জড়িত বলে সরকারের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে জানান তিনি। সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের আলোচনা চলার মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।' তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব শিল্প মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাঁদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত সন্দেহভাজন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামও দিতে বলা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সরকার কোনো কারখানা বন্ধ হোক বা শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হোক, তা চায় না। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখাই সরকারের লক্ষ্য।'
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজশাহী জেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির চেমেনি মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচ ২০০৬-এর ৬ মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিনের বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং স্বৈরাচারী ও একদলীয় শাসন ব্যবস্থার কারণে বহুলোক অন্যায়ভাবে চাকরি ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস মুছে দিয়ে এই কর্মকর্তাদের মর্যাদার সঙ্গে পেশাগত জীবনে ফিরিয়ে আনা সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, "জনগণ দিনশেষে পুলিশের কাছেই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে। পুলিশের সততা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের ওপরই সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে।" দেশ ও জনগণের সেবা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পবিত্রতার সাথে পালনের জন্য তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন ও কৌশল বদলেছে। সেজন্য সরকার ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবের সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, পুলিশের অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়াতে 'ট্রেনিং অব দ্য ট্রেইনার্স' (ToT) কর্মসূচির আওতায় কর্মকর্তাদের চীনসহ বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো অর্থ বরাদ্দ পেন্ডিং থাকবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মোঃ মাইনুল হাসান, এনডিসি। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, একাডেমির প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গত আট মাসের মেয়াদে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম বা কাস্টোডিয়াল ডেথের ঘটনা ঘটেনি। এটি স্পষ্ট করে যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে জনকল্যাণ সাধনে সরকারকে আরও অনেক দূর যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ সফলভাবে অপরাধীদের শনাক্তকরণ, গ্রেফতার, যথাযথ তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে সক্ষম হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, ভোটগ্রহণ অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী তখন পর্যন্ত (দুপুর) প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে যাতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নাটোরের সংসদ সদস্যের সন্তানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও গ্রেফতার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। সন্তান যদি সংসদ সদস্যেরও হয় এবং তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, রিমান্ডে আনা হয়েছে।" এতে আবারও প্রমাণিত হয় যে বর্তমান সরকার প্রভাব-প্রতিপত্তি বা পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করছে।