রাজধানীর দক্ষিণখানে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের মধ্যে বিরোধের জেরে সুফিয়া খাতুন নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাতে জয়নাল মার্কেটসংলগ্ন ৮ নম্বর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে সুফিয়াকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. করিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা পরস্পরের পরিচিত। তাদের মধ্যে কেউ মাদক বিক্রেতা, আবার কেউ মাদকসেবী। নিহত সুফিয়াও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের ধারণা, মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
রাজধানীর দক্ষিণখানে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের মধ্যে বিরোধের জেরে সুফিয়া খাতুন নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাতে জয়নাল মার্কেটসংলগ্ন ৮ নম্বর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে সুফিয়াকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রোববার (৮ নভেম্বর) দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. করিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা পরস্পরের পরিচিত। তাদের মধ্যে কেউ মাদক বিক্রেতা, আবার কেউ মাদকসেবী। নিহত সুফিয়াও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশের ধারণা, মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী পন্থায় দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, 'বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।' মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি নেট মিটারিংয়ের আওতায় অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিট-১-এ ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি’ (Power Start-Up Stage C) শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)। অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গতকাল বিএইআরএর চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (এনপিসিবিএল) স্টেজ সি শুরুর অনুমতি দেন। কমিশনিং প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সমন্বিত পরিচালনা পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টর, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সিস্টেম, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ইন্সট্রুমেন্টেশন ও কন্ট্রোল এবং রিঅ্যাক্টর প্রোটেকশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে টারবাইন কন্ট্রোল ও প্রোটেকশন সিস্টেম, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে। এই পর্যায়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে ইউনিট-১-এর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গ্রিডের সঙ্গে সংযোগসহ পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পূরণের ওপর নির্ভর করবে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এ স্টেজ সি শুরু হওয়াকে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কার্যক্রমে পারমাণবিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।