ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৩টির প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ১৬৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৫০ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭১৫।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে শুরু হয় গণনা। সর্বশেষ পাওয়া ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের পথে এগিয়ে যান বিএনপির প্রার্থী।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫২ শতাংশ ভোট পড়ে। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ এবং জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
দিনভর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তবে নির্বাচনে কিছু অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না। এ ছাড়া ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আসনটিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্ব পালন করেন বিজিবির ২১ প্লাটুন সদস্য, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের ২৫১ সদস্য, পুলিশের ২ হাজার ২৭২ সদস্য এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪০৫ সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্বে ছিলেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন চার বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ জন দেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক।
নির্বাচন চলাকালে একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ বিতরণ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতের এক নেতাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি। কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এজেন্টদের বিষয়টি বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে।
তবে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৩টির ফলাফলের ভিত্তিতে বিজয়ের ব্যবধান স্পষ্ট হলেও বাকি দুটি কেন্দ্রের ফল এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের পরই নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল নিশ্চিত হবে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে নতুন কমিটির নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলামের নাম। ছাত্রদল থেকে যুবদলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। আমিনুল ইসলামের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ২০০৩ সালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় শুধু পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ নয়। আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। বিএনপির বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ছিলেন আমিনুল ইসলাম। হরতাল, অবরোধসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা-মামলা, পুলিশি বাধা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন তাঁর সহযোদ্ধারা। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হন আমিনুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমিটিতে পরিবর্তন আনা হলেও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন তিনি।সব শেষ তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক পদে যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করে নতুন কমিটিতে আমিনুল ইসলামকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে নতুন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরপর থেকেই নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিতব্য এশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক সম্মেলন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইক্যাপ)-এর ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে দেশটিতে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিনিধিদলে দলের সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক জনাবা মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) জনাব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন। ৩৯টি দেশের ৯২টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এবারের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল—ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়া এবং পিপল পাওয়ার পার্টি—সম্মেলনটির সহ-আয়োজক। সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, গণতন্ত্র, সুশাসন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। আইক্যাপ ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা জোরদার করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা সরকার ও বিরোধী দলে অবস্থানের পার্থক্য নির্বিশেষে দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে আসছে সংস্থাটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর মতে, সনদটি ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্ব আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর পেছনে যে রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হলো, তার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে? নাই। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি।’ সনদের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে অতীতে হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ এই সনদ চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে সনদটির আইনি ভিত্তি দেওয়া নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তখন বিষয়টির একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তিনি জানান, সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিকভাবেই সমাধানের পরামর্শ দেন। রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জুলাই স্মৃতি জাদুঘর তৈরি করতে না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনো ‘জুলাই’ সংঘটিত না হয়, সে লক্ষ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। তবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। লংমার্চের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার কার্য পরিচালনায় বিচারকেরা যথেষ্ট স্বাধীন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র ও জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলে তাঁরাও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনেক সংকট এড়ানো সম্ভব। তাই রাজনৈতিক বিভাজন না বাড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।