ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর ব্যবহার করে দেশটিতে অস্ত্র এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী সরবরাহের সক্ষমতা সীমিত করতে নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার (৭ নভেম্বর) ‘আইরন গেট’ নামের এই টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানজুড়ে উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ও নিষিদ্ধ সামগ্রী এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে কাজ করবে টাস্কফোর্সটি। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে তারা।
টাস্কফোর্সটির মূল নজর থাকবে ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরের ওপর। গত জুলাইয়ে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। সংস্থাটির দাবি, ওই অবরোধের কারণে ইরান ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
প্রায় ২০ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত আইরন গেট টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যালয় করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় অবস্থিত সেন্টকমের সদর দপ্তরে।
সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, আইরন গেট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমুদ্রে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের কার্যকারিতা আরও জোরদার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনে ইরানের সক্ষমতা আরও সীমিত করা হবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরকেও অবরোধের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করতে ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামে বিশেষ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের উন্নত অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের চলাচল ঠেকানো হবে এই টাস্কফোর্সের প্রধান কাজ। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের বিবেচনায় অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধেও কাজ করবে দলটি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার টাম্পায় হবে এর সদর দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে তারা। ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই উদ্যোগ দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইরানের সঙ্গে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরে কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার উপকূল রয়েছে। এর আগে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের মাধ্যমে সমুদ্রপথের বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র ও পণ্য পরিবহন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়তে পারে।
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। এতে দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকোটকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রেসিডেন্ট। রোববার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। আলোচনায় আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সংসদ সদস্যসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানান ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। এরপরই আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট। সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। নির্বাচনে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন পেলেও তাদের নিয়ে সরকার গঠন করবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন আইজেনকোট। সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তাঁকে অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাসের সমর্থন পেতে হবে। এ দুই দলের সমর্থন পেলে তাঁর জোটের আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাবে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এখন আইজেনকোট শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন কি না, সেদিকেই নজর দেশটির রাজনৈতিক মহলের।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ফলাফল মেনে নেওয়া এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফল মেনে নিতে তিনি ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করে সমাধানে পৌঁছানোর আশাও প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ব্যালটে নিজের নাম না থাকাকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে বিচক্ষণ উল্লেখ করে এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান। নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবচেয়ে সফল সময় বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।